পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমেই তপ্ত হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে জনসভা করে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি যেমন আবেগঘন বার্তা দেন, তেমনই ক্ষমতায় এলে নারীনির্যাতনের সমস্ত ‘বন্ধ ফাইল’ খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
শুক্রবার সোদপুরের পানিহাটির অমরাবতী ময়দানে বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ-এর সমর্থনে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা, যিনি এবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন। সভার শুরুতেই তাঁর হাত ধরে সাধারণ মানুষের কাছে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান মোদি। নির্যাতিতার মায়ের মাথায় হাত রেখে তিনি সহানুভূতির বার্তা দেন এবং এই লড়াইকে ‘ন্যায়বিচারের লড়াই’ বলে তুলে ধরেন।
সভা থেকে আরজি কর ইস্যু তুলে ধরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস-কে তীব্র আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একজন মা তাঁর মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছিলেন, কিন্তু তৃণমূলের জঙ্গলরাজ সেই মেয়েকে কেড়ে নিয়েছে।” এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূলকে ‘নারীবিরোধী’ দল বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, রাজ্যে মহিলাদের উপর ধারাবাহিক অত্যাচার চলছে এবং সেই অত্যাচারের বিরুদ্ধে এবার বাংলার নারীশক্তিই জবাব দেবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “৪ মে-র পর সমস্ত অত্যাচারের হিসাব হবে, বন্ধ হয়ে যাওয়া নারী নির্যাতনের সব ফাইল আবার খোলা হবে। এটা মোদির গ্যারান্টি।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, নির্বাচনের পর আইন-শৃঙ্খলা এবং নারী সুরক্ষা ইস্যুকেই বড় করে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে মহিলাদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না।
এদিন প্রথম দফার ভোট নিয়েও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৫২টি আসনে রেকর্ড ৯২.৭১ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর কথায়, “এই ভোট দেখে তৃণমূল নেতারা হতচকিত হয়ে গিয়েছে। প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে যেমন জ্বলে ওঠে, তৃণমূলেরও সেই অবস্থা হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের পর বিজেপির বিরুদ্ধে গুন্ডাদের উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয়।
আরও পড়ুনঃ “বিশ্ববিদ্যালয় মানে জ্ঞানচর্চা, অরাজকতা নয়” যাদবপুর পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র বার্তা নরেন্দ্র মোদীর! পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ, দেশবিরোধী কার্যকলাপ ঘিরে কড়া অবস্থান প্রধানমন্ত্রীর!
পানিহাটির সভা থেকে রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও শাসক দলকে আক্রমণ করেন মোদি। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকে ধ্বংস করেছে এবং বেকার যুবকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের আশীর্বাদরূপী ভোট দিন, আমরা বাংলাকে জঙ্গলরাজ থেকে মুক্ত করব।” দিনভর এই কর্মসূচির পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার যাদবপুর সাংগঠনিক জেলাতেও সভা করার কথা রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে বিজেপির পক্ষ থেকে জোরদার প্রচারে নেমে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুললেন প্রধানমন্ত্রী।





